কামিনী কথা - ছোটগল্প

 কামিনী কথা

রাজকুমার মাহাতো

কামিনী-কথা-রাজকুমার-ব্লগ-ছত্রাক-বাংলা-গল্প-বাংলা-ব্লগ-ছোটগল্প
কামিনী এখনও নিজের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে দাঁড়িয়ে

নগেন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ এর নমিনি এবং ২য় পুরস্কার জয়ী

(১)

"হ্যাগো দেখো কামিনীও কেমন ঝলসে মতন গেছে !"
"আমাদের বিরহ হয়ত সহ্য করতে পারেনি ও"

কামিনি গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে পরমা আর সুনীল।ঝোলা চামড়ার হাতদুটো একে অপরকে জড়িয়ে আছে।সুনীলের এক হাতের লাঠি তেই ভর দুজনের।সুনীলের লাঠি আর পরমার সুনীলের হাত। কামিনী গাছটার নিচে সাদা ফুলে একেবারে বন্যা বয়ে গেছে। সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো উঠানটা সাদা হয়ে আছে। গাছের নীচে বসে পড়ল দুজনে। অনেক যত্নে মানুষ তাদের এই কামিনী।



"আচ্ছা আমাদের ছেলেদের মত কামিনীও বড়ো হয়েছে বলো?"প্রশ্ন করল পরমা।

"হ্যা তা তো হবেই।সেই কবে ছোট্ট একটুখানি এনে লাগিয়েছিলাম বলোতো।"

"মনে আছে তোমার?"

"হ্যা আছে বৈকি।"

"তুমি গর্ত খুঁড়লে আর আমি ওকে পুঁতে জল দিলাম। একবারে ধরে গেছিল বলো।"

"হ্যা ।তুমি পুঁতেছিলে কিনা!"

"আআআআ মলোযা।এই বয়সেও মন রাখার কথা বলছো।"

"কেন এই বয়সে বলা যায় না?"

"কে বলেছে বলা যায় না।"

"তোমার মনে পড়ে যেদিন তুমি এই বাড়িতে ব‌উ হয়ে এসেছিলে।"

"সে কি আর ভোলা যায় বলো?আমার জীবনের সবথেকে বড় পাওয়া তো ওই দিনটাই। আর তো কিছু পেলাম না।"

"সব‌ই তো পেলাম।না পাওয়া এখনও কিছু বাকি আছে?"

"আছে ব‌ইকি । অনেক আছে।"

" আর কি চাও বলো!"

"এই‌ বয়সেও দিতে পারবে যা‌ চাইবো?"

"চেয়েই দেখোনা একবার।"

"আমি চাই আমার মৃত্যু যেন এই কামিনীর তলায় হোক।ওর ছায়ায় আমি মরতে চাই।দেবে তো আমায়?"

"আর তোমার আগে যদি আমি মরি?"

"আ।আমার আগে তুমি মরতেই পারোনা। তুমি কথা দিয়েছ আমার শাঁখা সিঁদুর তুমি কোনদিন মুছবে না।আমার কত সখ আমি মরলে শাঁখা সিঁদুর নিয়ে পুড়ব।"

" তোমার এরকম সখ কেন?"

"অনেকের শখ তো অনেক ধরনের হয়।তাই আমার শখটা এই ধরনের।"

"আমরা এ বাড়িতে ফিরতে পারব কোনদিন পরমা?"

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল পঁয়ষট্টি বছরের বুড়িটা।পাশে বাহাত্তর টা বসন্ত দেখা বুড়োটা তার চোখের দিকে তাকিয়ে।কোন কথা নেই কারোর মুখে।
হালকা হাওয়ায় কামিনী তখনও ঝড়ছে।

(২)

সময়ের চাকা ঘুরিয়ে একটু পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া যাক। দূর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন সুনীল পরমাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে এল।বুড়ি মা ছাড়া আর কেউ ছিল না তার।পরমাকে বরন করে ঘরে তুলে শ্বাশুড়ি মা বলেছিল - মা এই ঘরটাকে সাজিয়ে নিস নিজের মত।আর আমার ছেলেটাকে গুছিয়ে দিস। বড্ডো অগোছালো ও।পনেরো ষোলো বছরের মেয়েটা মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল।সেই থেকে তার সংসার সংগ্রাম শুরু।

বৌভাতের দিন নতুন ব‌উকে তার স্বামী কিছু না কিছু উপহার দিয়ে থাকে।পরমা গভীর আগ্রহে নিজের উপহারের অপেক্ষা করছে। হঠাৎ একটা ছোট্ট কামিনী চারা এনে সুনীল বলল - এই নাও এটা তোমার উপহার আজকে আমাদের ফুলশয্যা কিনা।পরমার কামিনী ফুল খুব পছন্দ আর সেটা সুনীল তার বোনের কাছ থেকে জেনে নিয়েছিল।
দুজনে মিলে সেই কামিনী গাছটাকে রোপন করে নিজেদের সংসার শুরু করেছিল।
তখন সুনীলের চাষবাসের কাজ।জমিতে চাষ করে দুজনে টাকা জমিয়ে বানিয়েছিল এই বাড়িটা। রক্ত বিক্রির টাকায় তৈরি তাদের এই বাড়ি। ততক্ষণে সুনীলের মা পরলোক বাসী হয়েছেন।নিজের হাতে সাজিয়েছিল পরমা এই বাড়ি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনা মিশিয়ে তৈরি করেছিল তাদের "স্বপ্ননীড়"।আর তাদের এই সংগ্রামের সাক্ষী হিসেবে দেখেছিল কামিনী।



(৩)

বাড়িটার সাথে সাথে বেড়ে উঠেছিল এই কামিনী গাছ।
তারপরে একে একে দুই ছেলে ভাস্কর আর পুষ্কর।    তাদের সংসারে টানাটানি থাকলেও ভালোবাসায় কোন কমতি ছিল না। অল্পতে খুশি থাকতে জানত পরমা।মানিয়ে নিত দুজনে। কিন্তু ছেলেদের কিছুই বুঝতে দিত না। ছেলেদের সাথে সাথে এই কামিনী কেও মানুষ করেছিল দুজনে।
ভাস্কর আর পুষ্কর ছোটবেলা থেকেই জানত এই কামিনী তাদের বড়ো বোন।
পরমা বলতো - কামিনী দিদি তোমাদের ফুল দেবে ছায়া দেবে। বড়ো হয় কোনোদিন একে মেরে ফেলিস না জানো।
দুই ভাই জড়িয়ে ধরত মাকে। আর কামিনী তার ফুল ঝরিয়ে তার অস্তিত্বের পরিচয় দিত।

(৪)

ধীরে ধীরে দুই ভাই বড়ো হলো। পরমা আর সুনীল নিজেদের জীবনের সব দিয়ে দুটো ছেলেকে পড়তে কলকাতা পাঠালো।ছেলেরা কলকাতা এসে দুজনেই পড়াশোনায় মন দিল। পরমা আর সুনীল তাদের কামিনী কে নিয়ে দিন গুনতে লাগলো কবে তাদের ছেলেরা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গ্রামে গিয়ে তাদের দুঃখ ঘোচাবে।
নিজের বাপের বাড়ির দেওয়া শেষ গয়নাটাও বিক্রি করল পরমা। তাতেও খরচা কুলানো যাচ্ছিল না। শেষে একবেলা ভাত খেয়ে একবেলা মুড়ি খেয়ে কা‌‌টল দম্পতির দিন।বয়স‌ও এদিকে থেমে ছিল না।
কেটে গেল এইভাবে প্রায় তিনবছর।
কামিনী এখনও নিজের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে দাঁড়িয়ে।
হঠাৎ একদিন দুপুরে দুই ভাই এসে উপস্থিত।পরমা আর সুনীলের তো আনন্দের সীমা র‌ইল না।

ভাস্কর ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে দিল পরমার হাতে।
- মা এটা নাও। তোমার আর বাবার জন্য আমাদের দুই ভাইয়ের তরফ থেকে উপহার।
প্যাকেটটা ভিজে চোখে খুললো সুনীল।
- বাবা এ তো মোবাইল ফোন। কিন্তু আমরা তো ব্যাবহার করতে পারবো না বাবা।
পুষ্কর বললো - ফোন বাজলে এই সবুজ সুইচটা টিপেই কানে দিয়ে কথা বলবে। আর কিছু করার দরকার নেই।
সেদিন পুরো গ্রামে ঘুরে ঘুরে দেখালো সুনীল তার ছেলেরা তাকে মোবাইল ফোন দিয়েছে।এক আনন্দে আত্মহারা বাবাকে সেদিন পুরো গ্রাম দেখেছিল। সুনীল রুপে সেদিন গ্রামে ঘুরেছিল একটা বাবা যার জীবনের সবটুকুই তার সন্তানের জন্য গচ্ছিত থাকে।

(৫)

পরদিন সকালে ভাস্কর বলল - বাবা আমাদের এখনও কিছু টাকা লাগবে। তা না হলে এতো বছরের সব চেষ্টা পড়াশুনা বিফলে যাবে বাবা।
সুনীল তিন লক্ষ টাকা শুনে আঁতকে উঠেছিল। আর পরমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল।
কিন্তু পিছু হটেনি ওই মা বাবা। বাড়িটা বন্ধক দিয়ে তিন লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিল ছেলেদের হাতে। দমকা হাওয়ায় সেদিন কামিনীর নরম একটা ডাল ভেঙে পড়েছিল। হয়তো বড়ো সন্তান হিসাবে নিজের মা বাবাকে সাবধান করেছিল।কিন্তু মা বাবা সেসব শোনেনি।
ছেলেরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল - চাকরি পেলেই আগে বাড়ি ছাড়িয়ে নেবো বাবা চিন্তা করবে না।
কিন্তু ছেলেদের প্রতি এই বিশ্বাস আজ তাদের এই বাড়িতে ফেরার সংশয়ে নিয়ে এসেছে। কামিনীর টান‌ও কোন কাজে লাগেনি সেদিন সুনীল আর পরমার।তারা বোঝেনি ঘরটার সাথে সাথে তারা তাদের কামিনীকেও বন্ধক রেখেছে।
হয়ত কামিনী গাছটাও গুমড়ে গুমড়ে কেঁদেছিল সেদিন। কিন্তু বুঝতে দেয়নি কাউকে।

(৬)

তারপর বছর কেটে গেলেও কোনো খবর আসেনি ছেলেদের। প্রথম দিকে ফোন এলে সবুজ বোতামটা টিপে ছেলেদের সাথে কথা বলতো বুড়ো বুড়ি। তারপর ছেলেদের একে একে বিয়ের পর  সেটাও বন্ধ হলো। আর সবুজ বোতামটা টেপার সুযোগ হচ্ছিলো না তাদের।
কোনো খবর না পেয়ে একদিন গ্রামের একজনকে দিয়ে ফোন করলো সুনীল ভাস্কর এর কাছে।
ফোন তুলে ভাস্কর বললো - বাবা আমরা আগামী সপ্তাহে যাবো। চিন্তা করো না।
আশ্বস্ত হয়ে ফোনটা রেখে দিয়েছিল সুনীল।
হ্যা ভাস্কর আর পুষ্কর এলো পরের সপ্তাহে।
বুড়ো বুড়ি ভাবলো এবার বোধহয় ছেলেরা ঘরটাকে ছাড়িয়ে নেবে। কিন্তু পুষ্কর বললো - বাবা শহরে ফ্ল্যাট নিয়েছি। কাল তোমাদের নিয়ে যাবো সেখানে।এবার থেকে ওখানেই থাকবে তোমরা। এখানে তোমাদের দেখাশোনা করার জন্য কেউ তো নেই। ওখানে তোমাদের বৌমারা আছে। তোমাদের দেখবে।
ছেলেদের এরূপ ভালোবাসা দেখে আনন্দে চোখে জল এলো পরমার।
সেদিন রাতে কামিনীর কাছে অনেক ক্ষমা চাইলো পরমা আর সুনীল।কামিনীও তাদের এই পরিবর্তনে বাধা দেয়নি শুধু ভেবেছিল এইভাবে পরের হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেল তার মা বাবা। নিজের ফুল ছড়িয়ে মনের দুঃখ প্রকাশ করেছিল কামিনী সেদিন। কারন তার কাছে সুখ দুঃখ প্রকাশের আর কোন পথ ছিল না।

(৭)

পরদিন ছেলেরা দুজনকে নিয়ে চলে এলো কলকাতা।পড়ে রইলো স্বপ্ননীড় আর কামিনী।
একটা তেতলা বাড়িতে এসে বাবা মাকে রেখে ছেলেরা বললো - বাবা মা এখানে কিছুদিন থাকো।তোমার বৌমারা এখন বাপের বাড়ী গেছে আসলেই আমরা তোমাদের নিয়ে যাবো।
সুনীল মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।একটা লোক তাদের ভিতরে নিয়ে গেলো।ভিতরে আরও অনেক তাদের মত বুড়ো বুড়িকে দেখে চমকে গেলো সুনীল আর পরমা। পরিচয় হলো বাকিদের সাথে।
জানতে পারলো সুনীল ছেলেরা তাদের বৃদ্ধাশ্রম এ ছেড়ে গেছে।কিন্তু পরমা সবাইকে বললো - আমার ছেলেরা এক সপ্তাদের মধ্যে আমাদের নিয়ে যাবে।
বাকিরা শুনে কেমন একটা মুচকি হাসি হাসলো।তাদের সেই হাসির কারণ বুড়োবুড়ি বুঝলো না।
কেটে গেলো এক সপ্তাহ। কিন্তু তাদের ছেলেরা এলো না। বৃদ্ধাশ্রম এর ফোন থেকে ফোন করলো সুনীল ভাস্করকে। সে ফোনটা তুলে বললো
- বাবা তোমরা ওখানেই থাকো। এখানে তোমাদের আনতে পারবোনা। তোমাদের বৌমারা রাজি হচ্ছে না।
সুনীল বললো - ঠিক আছে বাবা। আমাদের তাহলে গ্রামে ছেড়ে আয় বাবা।আমরা আর তোদের ফোন করবনা। ওই গ্রামের বাড়িতেই মরতে চাই এখানে এই অজানা জায়গায় নয়।
ভাস্কর - বাবা কিছু মনে করো না।যার কাছে বাড়িটা বন্ধক ছিল তার থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে ওই বাড়ীটা আমরা বিক্রি করে দিয়েছি ।সেই টাকায় শহরে বাড়ি কিনলাম। তোমাদের তো জীবন শেষ বাবা। যেখানে এখন আছো সেখানে বাকি কটা দিন কাটিয়ে দাও না। রাখছি বাবা।বেশি ফোন করো না। ব্যাস্ত থাকি আমি। কাজের প্রচুর চাপ।
সুনীল এর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। মুহূর্তে সারা পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেলো তার। ছেলেদের প্রতি বিশ্বাস মনের কোন কোনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।

(৮)

দু দিন পর বৃদ্ধাশ্রম এর উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে এলো দুজন। কামিনী আর সেই স্বপ্ননীর তখন অন্য কারোর।
কামিনীর নিচে বসে গল্প করতে লাগলো দুজনে। শেষ ইচ্ছেটা জানালো পরমা।
কামিনী গাছ থেকে তখনও ফুল পড়ছে।হয়ত তাদের দেখে মনে মনে কামিনী খুব খুশী।তবে সেও কেমন যেন শুকিয়ে গেছে।
কিছুক্ষন হাতে হাত রেখে বসে রইল সুনীল আর পরমা।মনে করতে থাকল তাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি।একটু একটু করে জুড়ে জুড়ে তৈরি করা এই বাড়ি। নিজেদের সবটা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা নিজের ছেলেদের।আর শেষ পর্যন্ত এই কামিনীই একমাত্র নিজের যায়গায় অনড় থাকল। বাকি সবাই ফাঁকি দিয়ে চলে গেল।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল।পরমা মাথাটা রাখল সুনীলের কাঁধে।ভাঙা ভাঙা গলায় বললো - বুকটা বড় ধরপর করছে গো।
সুনীল পরমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল - বিষ নিজের কাজ করতে শুরু করেছে।
পরমা আধো খোলা আধো বন্ধ চোখটা সুনীলের দিকে তাকিয়ে বলল - আমি কিন্তু আগে যাব। তুমি কিন্ত আমার যাওয়ার পরে খেও।আমি কামিনীর তলায় অপেক্ষা করব।
- তোমার শেষ ইচ্ছা পূরণ হবে পরমা। অপেক্ষা করো আমার। আমিও তোমার পেছনেই থাকব।এ জগৎ বড় নিষ্ঠুর।আমরা যে জগতে যাব সেখানে কোন নিষ্ঠুরতা থাকবে না। শুধু কামিনীকে পরের হাতে ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট হচ্ছে।
- মেয়ে কি আর চিরকাল নিজের থাকে?এতদিন আমার ঘর সাজিয়েছে এবার থেকে অন্যের ঘর সাজাবে।
আসার সময় কিছুটা বিষ নিয়ে এসেছিল সুনীল।এসেই সেটা খেয়ে নিয়েছিল পরমা।কথা ছিল পরমা শাঁখা সিঁদুর নিয়ে যাওয়ার পর সুনীল বিষ খাবে।
কামিনী গাছটা খুব জোড়ে দুলতে লাগলো। এতক্ষনে সেও হয়ত বুঝল এবার সে সত্যিই পরের হাতে যেতে চলেছে।তার আর কিছু করার নেই।
পরমার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো। সুনীল কোলে শোয়ালো পরমাকে।
অস্ফুট স্বরে একবার পরমা বলল - আসছি।
নিস্তব্ধ হয়ে গেল চারিদিক। পাঞ্জাবির পকেট থেকে হাতড়ে বিষের কৌটোটা বের করে মুখে ঢাললো সুনীল।পরমার দিকে গভীর স্নেহে তাকিয়ে করতে থাকল মৃত্যুর অপেক্ষা।
কিছুক্ষন পর পরমার পাশে লুটিয়ে পড়ল সুনীল।
দমকা হাওয়ায় কামিনীর ফুলগুলো তখন তাদের গায়ে ঝড়তে লাগলো। দূরের লাল আভায় সুনীল আর পরমা হাতে হাত রেখে মিলিয়ে গেল।


সমাপ্ত