ভরসা করতেই হয় - সোশ্যাল মেসেজ

ভরসা

রাজকুমার মাহাতো

Trust-depend-rajkumar-mahato-chatrak-bengali-blog-ছত্রাক-রাজকুমার-মাহাতো-ব্লগ-ভরসা-সোশ্যাল-মেসেজ-লেখা-বাংলা-গল্প-ব্লগ

অনেককেই বলতে শুনি “আমি আর কারোর উপর ভরসা করতে পাবি না।“

আমার প্রশ্ন হল সত্যি কি আমরা কারোর উপর ভরসা করতে পারি না?

নাকি নিজেকে শক্ত দেখাতে অথবা যাতে আবার কেউ আমাদের ভরসার সাথে ক্যাচ ক্যাচ না খেলুক, তার জন্য অনর্গল মিথ্যে বলে যাই নিজেকে। অনেক মিথ্যে।

কাউকে দেখলেই মনে হয় সে আমার বিশ্বাস ভাঙবে। কাউকে মনের কথা বলতে পারি না। ওগরাতে না পেড়ে কষ্টগুলো জমা হয় বুকে। তার যতটা ক্ষমতা সে নেয় তারপর যখন আর নিতে পারেনা। সে ভেঙে পরে, সাথে আমরাও।

পড়ুন - একজন কোভিড আক্রান্ত ব্যাক্তির ডাইরি

অনেক নেগেটিভ লেখা পড়ি প্রতিদিন। কোন মানুষের ডিপ্রেসনের কথা। তাদের হতাশার কথা। কাউকে মনে কষ্টগুলো না বলে ওঠার কথা। তবে আজ আর নেগেটিভ কিছু লিখব না।কিছু পজিটিভ লেখার চেষ্টা করব, পুরো পজিটিভ।

আমরা যখন জন্ম নিই। যখন মরা ভ্রূণ হয়ে মায়ের গর্ভে থাকি তখন আমরা মায়ের উপর ভরসা করি।আমরা জানি মায়ের মাধ্যমে আমার শরীর গঠন হবে। আর তাই হয়ও।

ভূমিষ্ট হই যখন তখন আমাদের মা-বাবার উপর ভরসা করি। আমাদের জ্ঞান আসার পর আমরা বুঝি তাদের উপর ভরসা করেই আমরা এতটা বড় হলাম। মায়ের সহ্যশক্তির উপর ভরসা করি।

ছোটবেলায় বাবা যখন আমাদের তার মাথার উপর দিয়ে শুন্যে ছুঁড়ে আবার তার কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরে। ঠিক উপরে ওঠার সময় থেকে তার কোলে না আসা পর্যন্ত আমরা কিন্তু বাবার উপর ভরসা করি। অনেকটা ভরসা।

অথবা মা আমাদের স্নান করানোর সময় যখন আলতো করে সাবানের ফেনাটা চোখের পাশ দিয়ে নিয়ে চলে যায়। পাছে সেটা আমাদের চোখে ঢুকে  আমাদের কষ্ট দেয়। সেই সময়টাও মাঝে মাঝেই চোখ চেয়ে থাকি আমরা , কারন মায়ের উপর ভরসা আছে। সে কোনমতেই আমাদের কষ্ট দেবেনা।

স্কুলে উঠে শিক্ষকের উপর ভরসা করি। সে যেটাকে যা হিসেবে চেনায় আমরা ঠিক সেই হিসেবেই চিনতে থাকি। সেটাও ভরসা।

বাসে উঠে বাসের ড্রাইভারের উপর ভরসা করি। কারন জানি তার উপর গোটা বাসটার মানুষের প্রান। আর শুধু বাস কেন ট্রেন এরোপ্লেন যে কোন যানবাহনেই আমরা চালকের উপর ভরসা করি। যানবাহনে থাকাকালীন আমাদের দায়িত্বটা কেবল ওই স্টিয়ারিং হাতে মানুষটার উপরেই থাকে।

একটা মেয়েকে তার বাবা-মা যখন বিয়ে দিয়ে একটা পুরুষের হাতে তুলে দেন, তখন তিনিও কিন্তু ভরসা করেন। যে তার জামাই এবং তার পরিবার তার মেয়েকে সুখে রাখবে।

আবার অপর দিকে ছেলেটার বাড়ির লোকও ভরসা করে মেয়েটার উপর। যে মেয়েটা মানিয়ে নিতে পারবে তাদের সংসারে। আচ্ছা এই ভরসা টুকু না থাকলে কি নতুন সম্পর্ক গড়ত?

এই ধরুন একটা লেখক যখন লেখে অথবা তার বই প্রকাশিত হয়। তখন সে পাঠকের উপর ভরসা করে। কারন, সে জানে তার লেখার দাম একমাত্র তার পাঠকরাই দেবে।

অথবা, আমিই যখন এই লেখাটি লিখছি আমার ব্লগে প্রকাশ করব বলে। তখন আমি আপনাদের উপর গভীর ভরসা করে বসে আছি। কারণ আমি জানি আপনারা পড়বেন। ভালো মন্দ জানাবেন।

এইভাবেই মৃত্যুর আগে অবধি আমরা ওতপ্রত ভাবে ভরসার সাথে জড়িয়ে থাকি। সত্যি বলতে ভরসা ছাড়া মানুষ বাঁচেনা। তাই, আজ থেকে কারোর উপর ভরসা করিনা বলাটা ছেড়ে বুক ফুলিয়ে বলুন আমি সবার উপর ভরসা করি। ঠকি কিন্তু আবার করি। কারন, ভরসা ছাড়া মানুষ অচল।