বুটুর মা আর চরকা কাটা বুড়ি - মিনি ধারাবাহিক - পর্বঃ ৩ (অন্তিম)

বুটুর মা আর চরকা কাটা বুড়ি

রাজকুমার মাহাতো

পুর্ববর্তী ধারনাঃ বুটুর মা তার তিন ঘন্টা বয়সে আকাশের তারা হয়ে গেছে। বুটুর ঠাম্মি বলেছে তার মা'কে চরকা কাটা বুড়ি নিজের জালে আটকে রেখেছে। বুটু চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাকিটা এই পর্বে।

বুটুর-মা-আর-চরকা-কাটা-বুড়ি-রাজকুমার-মাহাতো-ছত্রাক-ব্লগ-ছোটগল্প-বাংলা-ব্লগ-বাংলা-সাহিত্য-বাংলা-গল্প

পর্ব ঃ ৩ (অন্তিম)

চাঁদে বুটুর আজ প্রথম দিন। এখনও চাঁদের বুড়ির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি তার। কি রুক্ষ মাটি চাঁদে। কষ্ট করে হাটতে হয়না অনেক পা। একবার লাফিয়ে বেশ খানিকটা চলে যাওয়া যায়। এদিক ওদিক ছোট ছোট ঢিবি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মাঝে মাঝে আবার বেশ বড় বড় গর্ত। বুটু এদিক ওদিক দেখল। গোপাল দা যে কোথায় গেল! সেই এখানে নামিয়ে দিয়ে সে গায়েব। কি দায়িত্বজ্ঞান হীন মানুষ গোপাল দা। এভাবে একটা বাচ্চাকে এনে কেউ অচেনা যায়গায় ছেড়ে চলে যায়? বুটুর ভয় করছে। অনেকটা ভয়। কাঁপুনি হচ্ছে না তবে। যতই ভয় করুক আর যতই যাই হয়ে যাক। মা’কে খুঁজে বের করতেই হবে।

সেদিন কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসে গোপালদা কাকে যেন একটা ফোন করেছিল। তবে তার হাতে ফোন ছিলনা। একটা বাঁশি কানে দিয়ে গোপালদা ফোন করে কি যেন বলছিল। বুটু কিছুই বুঝতে পারছিল না। কথা বলা শেষ হলে গোপালদা বুটুকে বলেছিল “দু মিনিট ওয়েট করো। এক্ষুনি খবর লাগাচ্ছি।“ তারপর হেসে বলেছিল “ তোমার মা’কে খুব ভালবাসো তুমি?”

বুটু মুখটা নীচু করে বলেছিল “ একবারও মা’কে দেখিনি আমি। কেমন হয় গো মা’কে দেখতে?”

গোপালদা হেসে বলছিল “তার কোন রুপ নেই। লাল্টুর মা, পচার মা, রিনির মা, তোমার ঠাম্মি যেমন দেখতে তেমনই দেখতে তোমার মা।“

বুটু ভ্রু কুঁচকে বলেছিল “সব মা’কে একই দেখতে?”

গোপাল বলেছিল “হ্যাঁ, পৃথিবীর সব মা’দের একই দেখতে হয়।“

বুটু কিছু একটা বলতে যাবে। এমন সময় সেখানে হাজির নারদ। হাতে একটা একতারা নিয়ে, মাথায় উঁচু করে জটা বেঁধে “নারায়ণ, নারায়ণ” করতে করতে এলেন তিনি।

গোপাল তাঁকে দেখে বলল “ এসে গেছেন ? বলুন কি খবর আনলেন?”

ছোটগল্পের পেজে যান

নারদ একতারাটা টিং টিং করে বাজিয়ে বললেন “ নারায়ণ, নারায়ণ। চাঁদের বুড়ির কাছে কিছু তারা আছে শুনলাম। তবে সেখানে বুটুর মা আছে কিনা আমার জানা নেই। ওত কাছে গেলে বুড়ির সন্দেহ হত। তার দূর থেকে দেখে চলে এলাম। “

গোপাল মিনিট দুই কিছু একটা ভেবে বললেন “ বুটু, তুমি চাঁদে যেতে চাও?”

বুটু উত্তেজিত হয়ে বলল “ হ্যাঁ হ্যাঁ। গোপাল দা। আমাকে নিয়ে যাবে? আমি যাব। মায়ের কাছে যাব।“

তার পরক্ষনেই মুখটা শুকনো করে বলল “ কিন্তু…”

গোপাল বলল “ কিন্তু কেন আবার?”

বুটু বলল “ চাঁদে যেতে গেলে চন্দ্রযান লাগে। কিন্তু আমার তো নেই । ইসরোর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তারা রাজি হলে তবেই আমরা যেতে পারব। কিন্তু তারা কি রাজি হবে? জানি না।“

কথাটা শুনে গোপাল হো হো করে হেসে উঠল। বুটুর খুব রাগ হল। তার এই অসহায়তা দেখে গোপাল এভাবে হাসছে। মনে মনে খুব কষ্ট পেল বুটু। চোখ ফেটে জল এল তার। গোপাল বুটুর অবস্থা দেখে হাসি থামাল। খুব শান্ত স্বরে বলল “ দুঃখ পেলে আমার হাসিতে?”

বুটু মাথা নিচু করে রইল। কোন কথা বলল না। গোপাল মুচকি হেসে বলল “ চিন্তা করোনা। তোমার গোপাল দা আছে তো। আমি নিয়ে যাব তোমায় সেখানে।“

কথাটা শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠল বুটু। জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। চেঁচিয়ে বলল “ সত্যি বলছ গোপাল দা। তুমি নিয়ে যাবে আমায়? সত্যি বলছ তো?”

অতিথি লেখকদের লেখা পড়ুন

গোপাল মুচকি হেসে “হ্যাঁ” বলে গায়েব হয়ে গেল। এদিকে বুটুর ঘরে ঠাম্মি এল। বুটু তখনও জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে। ঠাম্মি বুটুর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল “ মায়ের কথা মনে পড়ছে ?”

বুটু পিছন ফিরে উত্তেজিত হয়ে বলল “ জানো ঠাম্মি গোপাল দা বলেছে আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে…”

কথাটা সম্পুর্ন করল না বুটু। হঠাৎ মনে পড়ল এখুনি সবাইকে কথাটা বলা ঠিক হবেনা। ঠাম্মি তাঁকে খুব ভালোবাসে। সে যদি শোনে বুটু চাঁদে যাওয়ার প্লান করছে তাহলে হয়ত খুব কাঁদবে।অথবা খুব বকবে।


ঠাম্মি বলে “ মায়ের কাছে মানে? কে গোপাল দা?”

বুটু মুখটা ফিরিয়ে বলে “ওসব কিছু না। এমনি বললাম।“

ঠাম্মি চলে গেছিল। আর তার পরদিনই গোপাল দা বাঁশির মত একটা যানে চেপে বুটুকে এখানে নিয়ে এসেছে। আসার সময় কত কি দেখেছে বুটু। কত মেঘ বুটুর পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। কত গোল গোল বলের মত জিনিস ঘুরছিল চারদিকে। গোপাল দা বলেছে ওগুলো গ্রহ উপগ্রহ। বুটু চেঁচিয়ে বলেছিল “ আমি বইতে পড়েছি।“ গোপাল হেসে বলেছিল “বেশ।“

চাঁদের মাটিতে নামিয়ে দিয়ে সেই যে গোপাল গেল। এখনও এলনা। বুটু এদিক ওদিক একাই ঘুরতে লাগল। আর মনে মনে ভাবতে থাকল। যদি গোপাল দা আর না আসে। তাহলে সে বাড়ি ফিরবে কি করে! এইরুপ নানা ধরনের প্রশ্নেরা ভিড় করতে থাকল বুটুর মনে। একবার ভাবল ইস ভুল হয়েছে। গোপাল দার কথা না শুনলেই বোধহয় ভালো হত। যদি ইসরো থেকে একটা চন্দ্রযান নিয়ে আসত সে। খুব ভালো হত। তখন সাথে করে লাল্টুকেও আনা যেত।

চাঁদে খুব রুক্ষ মাটি । অনেকটা লাফিয়ে লাফিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছিল বুটু। চারপাশে একটাও গাছপালা নেই । একটাও নদী নেই, মানুষ নেই। দূরে কত গোল গোল গ্রহ উপগ্রহ ঘুরে বেরাচ্ছে। বুটু দূর থেকেই একটা নীল গ্রহ দেখল। নীল রঙের গ্রহটাকে দেখে চিনতে পারল বুটু। এখানেই তাদের বাড়ি। এখান থেকেই এসেছে সে। বুটু নিজের ঘরের জানালাটা খোঁজার অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। কোথায় তার বাড়ির জানালা। একটু ভয় পেল বুটু । আশে পাশে কেউ নেই। সে একা অচেনা একটা জায়গায়। গোপাল দাও নেই। সেই গেছে আর আসেনি। তবে কি তার আর বাড়ি ফেরা হবেনা? কোথায় চাঁদের বুড়ি? কোথায় তার মা? চোখ থেকে জল বেরিয়ে এল বুটুর।

বেশ খানিকটা ঘুরে যখন কিছু পেলনা বুটু। এক জায়গায় হাঁপিয়ে বসে পড়ল। সঙ্গে জল এনেছিল। কিন্তু গোপাল দা বলেছে এই গ্রহে জল খাওয়া যায়না। খাবার খাওয়া যায়না। কিন্তু বুটুর যে খুব তেষ্টা পেয়েছে। কি করবে এবার সে? হঠাৎ বুটুর কানে একটা ঘটাং ঘটাং আওয়াজ এল। বুটু উঠে দাঁড়াল। সে শুনেছিল চাঁদের বুড়ি যখন জাল বোনে, তখন ঘটাং ঘটাং আওয়াজ হয়।

যেদিক থেকে আওয়াজটা আসছিল সেদিকে ছুটে গেল বুটু। যদিও প্রাণপণে দৌড় লাগানো গেলনা এখানে। ওই লাফিয়ে লাফিয়ে যতটা তাড়াতাড়ি যাওয়া সম্ভব। ততটাই গেল বুটু।

একটা পাথরে হেলান দিয়ে বসে চরকা ঘোরাচ্ছে বুড়ি। বুটু পেছন দিক থেকে তার সাদা চুল দেখল। ঘটাং ঘটাং শব্দে পুরো জায়গাটা কাঁপছে। বুটু ধীরে ধীরে বুড়ির সামনের দিকে এল। কেঁপে উঠল বুটু। বাপরে, ঠাম্মি যেমন বলেছিল তার থেকেও বীভৎস দেখতে চাঁদের বুড়িকে। এক লাফে পেছনে সরতে গিয়ে বুটু সামনের দিকে এগিয়ে এল। বুড়ি একমনে চরকা ঘোরাচ্ছে। হঠাৎ বুটু সামনে চলে আসায় একপ্রকার কেঁপে উঠল বুড়ি। পরক্ষনেই নিজেকে সামলে বলল “ আঃ মরন। আবার মানুষ। যত আনাচে কানাচে বেঁচে বেঁচে থাকি এদের থেকে তত এরা আমার সামনে আসে। “

বুটু এই কথাটা শুনতে পেলনা। বুড়ি চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল “ তা বাপু। তোমাদের তো পৃথিবী দেচে। তোমরা তাহলে এত চাঁদে যাতায়াত করতেছ কেন ?”


বুটু বুড়ির কন্ঠস্বরে ভয় পেল। কিন্ত নিজেকে সামনে বলল “ তুমি চরকা কাটা বুড়ি?’

বুড়ি বলল “হ্যাঁ হ্যাঁ আমিই। কি চাই তোমার? তা এত ছোট বাচ্চাকে কি করে পাট্টে দিল ? কে জানে বাপু। বড় অপদার্থ এই পৃথিবীর লোকেরা। তা বাছা কিসে এয়েচ? চন্দ্রযান? “

বুটু বলল “ না। আমি…………”

বুড়ি উচ্চস্বরে বলল “ তা ওতে আসবে না তো কিসেই বা আর আসবে তোমারা।“

বুটু বলল “ আমি চন্দ্রযানে আসিনি। গোপালদার গাড়িতে এসেছি।“

বুড়ি বলল “ গোপাল দা কে গা? “ পরক্ষনেই হেসে বলল “ ও গোপাল? গোপাল ঠাকুর?”

বুটু বলল “ চেনো তুমি ওকে?”

বুড়ি বলল “ তা চিনব না। কতবার আসে আমার কাছে। কত গল্প করে আমার সঙ্গে। কি ভালো বাছা আমার।“


বুটু চিন্তায় পরল। গোপাল দা যদি বুড়িকে চেনে। তাহলে তাঁকে আগে বলেনি কেন? অথবা নিজে খোঁজ নিয়ে জানায়নি কেন? তাহলে কি গোপাল দা আর বুড়ি ষড়যন্ত্র করে বুটুকে এখানে আটক করবে বলে এনেছে। তাই বোধহয় গোপাল দা বুটুকে এখানে একা ফেলে পালিয়েছে। রাগে ক্ষোভে বুটুর চোখ ফেটে জল এল। তাও নিজেকে সামনে বুটু বলল “ আমার মা কই?”

বুড়ি কিছুটা অবাক হয়ে বলল “ তোমার মা পৃথিবীতে। যেখান থেকে তুমি এয়েচ, সেখানেই তো তোমার মা আছে।“

বুটু বলল “ না নেই। ঠাম্মি বলেছে মা আকাশের তারা হয়ে গেছে।“

বুড়ির মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল। করুন স্বরে বুড়ি বলল “আহা, বাছা গো আমার। বুঝেছি তোমার মা কোথায়।“

বুটু বুড়ির দিকে এগোতে চাইল কিন্তু পারল না। বুড়ি বুটুকে বলল “ আর এগোতে পারবে না আমার দিকে। চাঁদ আবার কি সব করে আমাকে বেঁধে দিয়েছে। বলেছে পৃথিবীর লোক এলে চোদ্দদিন তাঁকে না ছুঁতে। দূর থেকে কথা বলতে। কি সব ভাইরাস বেরিয়েছে নাকি পৃথিবীতে।“

বুটু শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে বলল “ বলোনা আমার মা কোথায়?”

বুড়ি এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল “ তা আমি তো জানিনা খোকা তোমার মা কোথায়।“


বুটু রেগে গিয়ে বলল “ তুমি সব জানো। সব জানো তুমি। ঠাম্মি বলেছে মা’কে তুমি তোমার জালে আটকে রেখেছ।“

বুড়ি যেন আকাশ থেকে পরল। ভ্রুটা কুঁচকে বলল “ ঠিক বুঝেচি। সেই কোন আদ্যিকাল থেকে আমার নামে গুজব রটিয়ে বেরাচ্ছে তোমাদের পৃথিবীর লোকেরা। আমি নাকি তারাদের আঁটকে রাখি। তা বাপু, ওদের আটকে আমি করবটা কি?” বলেই বুড়ি মুখ ঘুরিয়ে বসে গজ গজ করতে করতে কি সব বলল। বুটু সেসবের কিছুই শুনতে পেলনা। বুটু আবার বলল “ আমার মা’কে ফিরিয়ে দাওনা ঠাম্মি।“

বুড়ি বুটুর দিকে তাকাল। বুড়ির চোখে জল এল। আজ পর্যন্ত তাঁকে কেউ ওই নামে ডাকেনি। সবাই কত কি গঞ্জনা দেয় বুড়িকে। সে নাকি তারাদের নিজের জালে আটকে রাখে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে একটাও তারাকে আঁটকে রাখেনি। এই প্রথম তাঁকে এউ কোন আপন সম্বোধনে ডাকল। বুড়ির খুব ইচ্ছে হল একবার বুটুকে জড়িয়ে ধরতে। চুমুটা নাহয় নাই খেল।  

হঠাৎ সেখানে বাঁশিতে চড়ে গোপাল এসে হাজির। তার পেছনে একটা মহিলা। লাল পাড় শাড়ি পরা। চওড়া করে সিঁদুর পরা। বুটু সেই মহিলাকে দেখল। তার মনে হল, এতো সেই পচার মা, লাল্টুর মা এদের মত দেখতে। বুটুকে দেখে মহিলার চোখে জল এল। একলাফে বুটুর কাছে এগিয়ে এল সে। তারপর জড়িয়ে ধরল বুটুকে। বুটু কিছু বোঝার আগেই তাকে দু-চারটে চুমু খেয়ে নিল। তারপর বুটুর দিকে তাকিয়ে বলল “সোনা আমার, মানিক আমার। কত বড় হয়ে গেছে, মানিক আমার।“

বুটু বুঝতে পারল এই তার মা। সেও কষে জড়িয়ে ধরল মা’কে। চাঁদের বুড়ি আর গোপালের চোখে জল এল। চোখের জল মুছে চাঁদের বুড়ি বলল “তা বাছা। দেখেছ তো আমার নামে কেমন সব গুজব রটায় তোমাদের পৃথিবীর লোক।“

বুটু কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল “সরি ঠাম্মি।“

বুড়ি কিছু একটা ভেবে বলল “ছরি মানে আবার কি?”

গোপাল হেসে বলল “ওটা ছরি না সরি। ওটার মানে দুঃখিত।“

বুড়ি মুচকি হেসে বলল “কত জন্ম এই অপবাদ নিয়ে বসে আছি। এ অপবাদ শেষ হবার নয়।“

বুটু হেসে বলল “আমি এবার পৃথিবীতে গিয়ে সবাইকে বলে দেব। চাঁদের বুড়ি ঠাম্মি কোন তারাকে আটকে রাখেনা। সব মিথ্যে।“

বুড়ি হাসল। বুটুর মা বলল “আবার আমার মুক্তি হবে।“

বুড়ির চোখে জল এল। বুটুর দিকে তাকিয়ে বলল “ছেলের ছোঁয়া পাওয়ার জন্যই আটকে ছিলে এখানে। যাও, এবার খসে যাও।“

বুটুর মা বুটুকে চুমু খেয়ে বলল “যাও বাবা, এবার ফিরে যাও।“

বুটু বলল “তোমাকে না নিয়ে যাবনা আমি। সবাই বলে আমার মা নেই। আমার খারাপ লাগে।“

বুটুর মা বুটুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল “কে বলেছে তোমার মা নেই? ঠাম্মিই তোমার মা বাবা।“

বুটু বলে “কি করে?”

বুটুর মা বলে “ ঠাম্মি তোমাকে মানুষ করছে। তাহলে সেই তোমার মা। কেবল জন্ম দিলেই মা হওয়া যায়না সোনা। এই গোপালকে জিজ্ঞেস করো। “

বুটু গোপালের দিকে তাকাল। গোপাল হেসে বলল “হ্যাঁ বুটু মা ঠিক বলেছে। মায়ের কোন জাত হয়না, মায়ের কোন রুপ হয়না। সব রুপের মা একই।“

বুটু আবার প্রশ্ন করল “কিভাবে?”

গোপাল বলল “আমার জন্মদাত্রী মা দেবকী, কিন্তু আমি যশোদা মায়ের কাছে মানুষ। তাদের শরীর আলাদা হলেও মনটা একই। তারা কেবলই মা।“

বুটুর চোখে জল এল। মা’কে জড়িয়ে ধরে বলল “যেওনা মা। প্লিস যেওনা।“

গোপাল বলল “এ যে বিধির নিয়ম বুটু। সবাইকে যেতে হবে। ছেড়ে দাও। যেতে দাও।“

বুটু মা’কে ছেড়ে দিল। বুটুর দিকে তাকাল মা। চোখ দিয়ে জল পরল। মুখে মুচকি হাসি। দেখতে দেখতে তারা হয়ে গেল মা। বুটুর সামনে খসে গেল নীচের দিকে। বুটু দাঁড়িয়ে দেখল সবটা। সে মনে মনে ভেবেছে আজ থেকে ঠাম্মিকে “মা” বলবে সে।

সমাপ্ত

পর্বঃ ১                  পর্বঃ ২