অতিথি লেখিকা - স্বাধীনতার অপর নাম গোয়া - ভ্রমন কাহিনী

স্বাধীনতার অপর নাম গোয়া

ঐশ্বর্য্য কর্মকার

ছত্রাক-ব্লগ-বাংলা-ব্লগ-রাজকুমার-ভ্রমন-কাহিনী-গোয়া-bengali-story-blog-goa-tour-travel-story-short-story


জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পৌঁছে গেলাম গোয়া। ওই পাঁচদিন শুধু ঘুরে বেড়িয়েছি সমুদ্র সৈকতে, পড়ে দেখেছি গোয়ার পাতায় পাতায় লেখা সাড়ে চারশ বছর পুরনো পর্তুগিজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন গল্প।  

প্রায় প্রতিদিন সৈকতে বসে স্বাদ নিতাম সুজিতে ডোবানো পমফ্রেট ভাজার। হ্যাঁ তার সাথে অবশ্যই গোয়ার বিখ্যাত বিয়ার বোতল আপনি যদি একটু সাহসী হোন তাহলে বিয়ার ছেড়ে গোয়ার নিজস্ব জিআই চিহ্নিত দেশী মদ ফেনী পান করে দেখতে পারেন। কাজু পচিয়ে তৈরি হয় ফেনী। ৫০০ গ্রাম বোতলের দাম মোটামুটি ২০০ টাকা থেকে শুরু। নিউটন নামে সুপার মার্কেটে আসল জিনিস বিক্রি হয়।  

যাই হোক , দ্বিতীয় দিন আমরা গেলাম পানাজিতে। ঐতিহ্যপূর্ণ রংবেরং ফন্টেনহাস পাড়াতে লাগিয়ে এলাম এক চক্কর। মনে হচ্ছিলো , পর্তুগালের কোনো পাড়াতে চলে এসেছি। এখানে, প্রতিটি বাড়ির গায়ে রামধনুর সাত রং। অনেকগুলি সুন্দর ক্যাফে তৈরি হয়েছে এখানে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে " বোম্বে কফি রোস্টার্স " ভালো লেগেছে। সোল শেফ গোয়াতে পৌঁছে গেলাম রাতে , এখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশেষ কিছু খাবার পাওয়া যায়।


পরের দিন অর্থাৎ তৃতীয় দিন গেলাম ভেলহা গোয়া। বাসিলিকা অফ বম জেসাস, এই অসহ্য সুন্দর গির্জাটিতে পা রাখলেই আপনি বুঝতে পারবেন রোম কি করে ভারতে পাড়ি দেয়। এটি একটি ইউনেস্কো ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান। ভারতের একমাত্র আয়ুর্বেদিক ওয়েলনেস রিসোর্ট, মারকিউরি দেভায়া, এখানে অবস্থিত। 

বিকেলের দিকে গেলাম বিখ্যাত ডক্টর সালিম আলী পাখিরালয়। সবুজে সবুজ এই অঞ্চলটি ঘন ম্যানগ্রোভ জঙ্গল, মান্ডবী নদীর মুখরা, পুরনো পর্তুগিজ কুটির, আর শান্ত কিছু গোয়ার গ্রাম দিয়ে তৈরি।  

এবার আসি ক্যান্ডোলিম এর কথায়; আমাদের চতুর্থ দিনের গন্তব্য। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রস্নান, খাওয়া-দাওয়া একজন স্থানীয় গোয়া ছেলের ফ্ল্যাটটি আমরা ভাড়া করেছিলাম।  

কাছেই সমুদ্র। বাইকে ১০ মিনিট। হেঁটে গেলে আধঘন্টা। সমুদ্রের ধারেও হোটেল আছে কিন্তু তার দাম বেশি। জীপ বা গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া লাগে দিনের হিসেবে।

ভাজা চিংড়ি , ভাজা স্কুইড আর কিং-ফিশ স্টেক এখানকার মাস্ট ট্রাই খবর।  

দক্ষিণের বীচগুলি তুলনামূলকভাবে শান্ত। 

দক্ষিণ গোয়া আমার প্রিয় বীচ গুলি হল: কোল্ভা , পালোলেম, পাটনেম। 

পঞ্চম দিনে ট্রেক করে দুধ সাগর ঝরনা অব্দি গিয়েছিলাম। আমরা সকাল সকাল পৌঁছে গিয়েছিলাম কারণ যত বেলা বাড়তে থাকে জনসংখ্যাও বাড়তে থাকে। এরপর দিন ব্যাগ পত্তর গুছিয়ে সোজা এয়ারপোর্ট।  

শেষ করার আগে বিশেষ কিছু কথা

সামুদ্রিক মাছ, পমফ্রেট, চিংড়ি এগুলোই এখানকার প্রধান মাছ। বাঙ্গালীদের মতনই নারকেলের দুধ দিয়ে এখানে রান্না করা হয়। প্রত্যেকটি বড় সমুদ্র সৈকতে বাঙ্গালীদের জন্য বিশেষমিল সিস্টেমচালু আছে। টাটকা শুয়োরের মাংস দিয়ে কষিয়ে রান্না করা হয় ভিন্দালু। খাওয়া হয় গরম ভাত দিয়ে মেখে। মিষ্টির জন্য আপনাকে গুড় নারকেল দিয়ে তৈরি বিবিন্কা কেকের ওপরেই নির্ভর করতে হবে। 

কিভাবে যাবেন

প্রচুর ফ্লাইট আছে যা কলকাতা থেকে সোজা গোয়া তে যায়। এখানে ওলা বা উবার চলে না, তবে গোয়ামাইলস অ্যাপটি ডাউনলোড করে নেবেন উবারের মত এত সুন্দর সার্ভিস নয় তবে সকাল বিকেলে গাড়ি পাওয়া সম্ভব। 

থাকবেন কোথায়

গোয়া তে প্রচুর থাকার জায়গা আপনি দিনের দিন গিয়ে বুক করতে পারেন। তবে আগে থেকে একটু খোঁজ খবর নিয়ে রাখা ভালো।

 


ঐশ্বর্য কর্মকার

লেখিকা একজন Content writer। পাশাপাশি থিয়েটার এর সাথে যুক্ত।