বন্ধুত্বের অধ্যায় - আমাদের হাসির অন্যতম কারণ

 বন্ধুত্বের অধ্যায়

Friendship-Day-Short-Stories-Rajkumar-Mahato-chatrak-blog-bengali-Blog-ছত্রাক-ব্লগ-রাজকুমার-মাহাতো-ছোটগল্প-বন্ধুত্ব




ছোটবেলায় আমার তেমন বন্ধু ছিলনা। একটু হটকে ছিলাম আমি। পড়াশোনা আর মাটি নিয়ে পরে থাকতাম সারাদিন। হাবিজাবি বানাতাম মাটি দিয়ে। কুকুর বানাতে গিয়ে শেয়াল বানাতাম, শেয়াল বানাতে গিয়ে এলিয়ান। 

মুখের ভাষা খরচ করতে একেবারেই ভালো লাগত না আমার। খুব মুখচোরা ছিলাম। তাই, সেইভাবে আমার কোন বন্ধু ছিলনা। না পাড়ায়, না স্কুলে। 

বাড়িতে পিসি পড়াতে আসত, পড়তাম। সুতরাং, সেখানেও বন্ধু শূন্য। 
বন্ধু আসলে কেমন হয়, তাদের গড়ন কেমন, তারা বাঘ না ভাল্লুক, তারা খায় না মাখে, কিছুই জানতাম না। একেবারেই না। 
ক্লাস সেভেনে যখন পদার্পণ করলাম।‌ বাবা জোড় করে বাড়ির টিউশনি ছাড়িয়ে দিল। গম্ভীর গলায় বলল " বড় হচ্ছিস।‌ লোকসমাজে মিশতে শেখ। কোচিন এ যেতে হবে এবার।"

কোচিন এ ভর্তি হলাম। প্রথম কয়েকদিন ঠিক বাচ্চারা প্রথমদিন যেমন স্কুল যেতে গেলে কাঁদে। তেমনি কাঁদতাম। একদম ভালো লাগত না আমার। বাবাকে অমরেশ পুরী মনে হয়েছিল। আর আমার মা  নিরুপা রায় হয়ে নিরুপায় ছিল স্বামীর আদেশের কাছে।
সেই আমার প্রথম বন্ধু জগতে পদার্পণ। সেভেন, এইট মিলে একটা ব্যাচ ছিল কোচিনে। প্রথম বন্ধু গৌতম। দাঁত উঁচু, কলো। নেগরো দের মত দেখতে। আমার সাথে যেচে কথা বলতে আসত। কিন্তু আমি ভয় পেতাম। কথা বলতাম না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গৌতম আমার খুব ভালো বন্ধু হলো।
 
তারপর একে একে সৌরভ, মলয়, প্রসেন আরও অনেকে বন্ধু হলো। খুব মজা করতাম। বুঝলাম আমার অমরেশ পুরী বাবা খুব একটা খারাপ কাজ করেনি।

তারপর মাধ্যমিক দিলাম। এগারো ক্লাসে বন্ধু হলো রমজান আর ইদ্রিস। কুনাল আমার স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড। রমজান এর থ্রু দিয়ে বন্ধুত্ব হল কবিরের সাথে। তারপর বাবা ভাবত, কেন আমাকে কোচিন এ পাঠিয়েছিল? কেন আমাকে এই বন্ধু জগতের সাথে পরিচয় করিয়েছিল? কারন, বাড়িতে আমায় দেখা যেত খুব স্বল্প সময়ে। খুঁজে পাওয়া যেত না আমায় এ পাড়ায়। হয় নয়াবস্তি নয় কলেজ স্ট্রিট নয় গড়েরমাঠ। এই ছিল আমাদের ডেসটিনেশন।
তারপর আমার জীবনে অনেকে এসেছে। পরিচিত হিসেবে। বন্ধু হয়ত হয়ে উঠতে পারেনি তারা। কারন, সবাই পরিচিত হলেও বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনা।


ব্যস্ততার‌ বাহানা দিয়ে, বাস্তবের অজুহাত দেখিয়ে সবাই একে একে কেটে পরেছে। শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়। এটা সবার ক্ষেত্রে হয়। এক একটা সময় এক একটা বন্ধুত্বের পাল গড়ে ওঠে‌ । অনেকটা আনন্দ অনেকটা খুশি আমাদের ঝুলিতে দিয়ে যায় তারা। আমরা তাদের সাথে এক একটা বন্ধুত্বের অধ্যায় কাটাই। স্মৃতি রোপন করি। আর এই স্মৃতি গুলোই আগামী দিনে আমাদের হাসতে সাহায্য করে। বাঁচতে সাহায্য করে।

Happy Friendship Day