ফুলশয্যা বইয়ের রিভিউ

ফুলশয্যা বইয়ের রিভিউ

phoolsojya-fiction-review-bengali-book-review-romantic-book-rajkumar-mahato-bengali-author-chatrak-pratilipi-ফুলসজ্যা-বাংলা-প্রেমের-বই

ফুলশয্যা বইয়ের রিভিউ, নতুনদের লেখা বই, রাজকুমার মাহাতোর লেখা বই, প্রতিলিপির গল্প, ফুলশয্যা প্রতিলিপি, প্রেমের উপন্যাস


আচ্ছা, আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন দয়া করে? দেবেন?
আমার প্রশ্ন হল - একপাতা দুই পাতা রিভিউ দেখে ব‌ই কিনে ঠকেছেন কোনদিন? কমবেশি সবাই ঠকেছি। আসলে ঠকেছি ঠিক বলা যায় না। সবার পছন্দটা হয়ত এক নাও হতে পারে।
এই আমার ব‌ইটাই ধরুন। অনেকে রিভিউ দেখে কিনে আমাকে মেসেজ এ বলেছেন। " দাদা অনেক বানান ভুল, প্রকাশকের অনেক গাফিলতি আছে। অন্য প্রকাশক কে দিতে পারতেন গল্পটি। আপনি প্রথম লিখছেন মানলাম, কিন্তু তাঁরা প্রথম ছাপছেন এটা মানা যায়না।"
তাদেরকে আমার রিপ্লাই ছিল " পরবর্তীতে সব ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব। পাশে থাকবেন।"

কেউ কেউ আমার এই উত্তরকে সাধুবাদ জানিয়ে ❤️ দিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন 😏, আবার কেউ দিয়েছেন 😠😖🥱🤤👹। আমি আবার তাদের রিপ্লাই দিয়েছি 🙂
ঠিক করেছি? কি মনে করেন আপনারা?

আমার মনে হয় ঠিক করেছি। সত্যিই অনেক বাজে ব‌ই। নতুন লেখক, বানান জানেনা, ভুলভাল ছাপায়। আর‌ও কত কি!

তবে আমি ভুলে যাইনি যে আমাকে অনেকে পাঠক সাধুবাদও জানিয়েছেন। সবার চয়েজ এক নয়। ভাষা এক নয়, রুচি এক নয়। তবুও ভালো খারাপ মিলিয়ে আমার কলম নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার খোঁজ করছে এখন‌ও।

আজ সকালে এমন একটা রিভিউ পেয়েছি। যেটা আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। আচ্ছা, এই এক দুই পাতা রিভিউ এর থেকে এগুলো কি বড় পাওয়া নয়? একবার ভেবে দেখুন তো? আমি ভুল হলে অবশ্যই বলবেন। কিন্তু ঠিক হলেও বলতে হবে। প্রায় এক বছর পর এরকম একটা রিভিউ পেয়ে আমার মনে হচ্ছে আমার ব‌ই জীবিত। এখনও জীবিত। কোন অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়নি সে। সে এখনও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। খুব খুব ভালো লাগছে আজ।
রিভিউটি এখানে লিখে দিলাম, প্রুফ এর জন্য কমেন্ট বক্সে পড়ে নেবেন। যদিও কাউকে কিছু প্রমাণ করাটা আমার একেবারেই অভ্যাসে নেই। তবুও সব দিক ভেবে screenshot দিলাম।



নমস্কার দাদা,
আপনি হয়ত আমাকে চিনবেন না। হয়ত কেন, আপনি চিনবেন না আমি জানি। আপনার প্রথম লেখা পড়েছিলাম প্রতিলিপিতে। তারপর থেকে আপনাকে ফলো করে আসছি। আজ‌ও করি। কিন্তু সম্ভবত আপনি প্রতিলিপিতে লেখা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আমিও প্রতিলিপি যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আসলে এসব হয়ত একটু তেল দেওয়া কথা মনে হতে পারে আপনার। তবে আমার কাছে এগুলো আমার মনের কথা।

আপনার প্রথম লেখা "ফুলশয্যা" পড়েছিলাম প্রতিলিপিতে। তারপর বাবার থেকে টাকা নিয়ে ব‌ইটা কিনেছিলাম। হ্যা, বাবার থেকে। আমি বিবাহিত তার সত্বেও বাবার থেকে টাকা নিয়েই ব‌ইটা কিনতে হয়েছিল। কারন, আমি তখন বাপের বাড়ি থাকতাম। আজ থেকে তিন মাস আগে।
এতসব কথা বলার একমাত্র কারণ আপনি আরও কিছুটা পড়ার পর হয়ত বুঝবেন।
আমার স্বামীর সঙ্গে আমার ডিভোর্স ফাইল হয়েছিল সেপ্টেম্বর ২০২০ তবে।

আর আমি ব‌ইটা পড়েছিলাম তার একমাস পর মনে হয়। পড়তে পড়তে কোন‌ এক সময় হারিয়ে গিয়েছিলাম নিজের মধ্যে। তোমার রমা মাসীর পরিনতি টা ভেবে। হ্যা, আমিও অন্য একজনের হাত ধরেই বেড়িয়ে এসেছিলাম বাড়ি থেকে। কিন্তু।
যাক সেসব কথা থাক। তিনমাস হল আমি আবার আমার শ্বশুর বাড়ি ফিরে এসেছি। ডিভোরস তোলার প্রচেষ্টা চলছে।‌ সবটাই তোমার ওই ব‌ইটার জন্য। জানিনা, তুমি এত বড় একটা মেসেজ পড়বে কিনা। তবে লিখতে ইচ্ছে হল।
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার মত ভাগ্য সবার হয়। ভুল করার আগে ধরিয়ে দেওয়ার লোকটা যেন‌ পায় তারা। আমার প্রনাম নিও। আরও মানুষকে বাঁচাতে শেখাও। ভালো থেকো দাদা। যদি পড়ো। একটা রিপ্লাই করো। বুঝব আমার লেখাটা সার্থক হয়েছে। আমি আমার পথ প্রদর্শক র রিপ্লাই পেয়েছি।

🙏🙏🙏🙏🙏🙏
তারপর আমাদের কথোপকথন কমেন্ট বক্সে দিলাম। আর হ্যা আমি ওর থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই এই পোস্টটি করলাম।
কাউকে ছোট করা অথবা বড় করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি আমার ভালোলাগাটা শেয়ার করলাম। আর হ্যা, অবশ্যই #বইয়ের বিজ্ঞাপন দিলাম। আর এটাও বলে রাখি এইগুলোই আমার কাছে পাওয়া। "অসাধারণ, চমৎকার, ব্রিলিয়ান্ট, খুব ভালো, একদম বাজে, রাবিশ " ইত্যাদির থেকে অনেক উপরে।
ভালো থাকবেন সকলে, পড়তে থাকবেন।